ইমিটেশন গহনা হলো আসল স্বর্ণ, রুপা বা হীরার মতো দেখতে তৈরি কৃত্রিম বা প্রলেপ দেওয়া অলংকার, যা অল্প খরচে ফ্যাশনেবল লুক আনে। এসব গহনার ডিজাইন এতই নিখুঁত যে দূর থেকে দেখলে অনেক সময় আসল গহনা বলে ভ্রম হয়। তাই সীমিত বাজেটের মধ্যেও দারুণ সাজতে চান এমন নারী-পুরুষের কাছে ইমিটেশন গহনা এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই নিবন্ধে জানাব, কীভাবে সহজ নিয়মে আউটফিটের সাথে ইমিটেশন গহনা ম্যাচ করবেন।

- ইমিটেশন গহনা আসল গহনার তুলনায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে কেনা যায়।
- পারফিউম বা লোশনের রাসায়নিক উপাদান ইমিটেশন গহনার ধাতব প্রলেপ দ্রুত নষ্ট করে।
- গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ইমিটেশন গহনার প্রলেপ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
সূচিপত্র
আরও জানতে, আমাদের ইমিটেশন কোলিয়ের কালেকশন দেখুন পৃষ্ঠাটি দেখুন।
ইমিটেশন গহনা কী এবং কেন এটি জনপ্রিয়?
ইমিটেশন গহনা হলো ধাতুর প্রলেপ দেওয়া অলংকার, যা দেখতে দামি হলেও খরচ আসল গহনার তুলনায় অনেক কম।
ইমিটেশন গহনা সাধারণত পিতল, তামা বা জিংকের ওপর সোনা বা রুপার প্রলেপ দিয়ে তৈরি। অনেক ডিজাইনে জিরকন বা কাচের পাথর বসানো হয়, যা দেখতে হীরার মতো লাগে। দাম আসল গহনার তুলনায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কম। ফলে উচ্চ ফ্যাশন এখন সবার নাগালে।
বাংলাদেশে ইমিটেশন গহনার বাজার দিন দিন দ্রুত বাড়ছে। নারীরা শাড়ি, সালোয়ার, কামিজ এমনকি জিন্স-টপের সাথেও ইমিটেশন গহনা পরছেন। অনলাইন স্টোর ও লোকাল মার্কেটে হরেক ডিজাইন পাওয়া যাচ্ছে। ম্যাড গোল্ড ইমিটেশনের মতো ব্র্যান্ডগুলো মানসম্মত প্রলেপযুক্ত গহনা সরবরাহ করছে। তাই অল্প বাজেটেও প্রিমিয়াম লুক সম্ভব।
রং ম্যাচিংয়ের মূল নিয়ম
গহনার ধাতুর রংয়ের সাথে পোশাকের রংয়ের সামঞ্জস্যই আউটফিট ম্যাচিংয়ের প্রথম ধাপ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো গহনার ধাতুর রংয়ের সাথে পোশাকের রংয়ের সমন্বয়। সোনালি রং উষ্ণ রঙের পোশাকের সাথে ভালো মানায়। রুপালি রং ঠান্ডা রঙের পোশাকে চমৎকার দেখায়। কালো ও সাদা পোশাকে দুই ধরনের ধাতুই মানানসই।
পোশাকে একাধিক রং থাকলে পোশাকের প্রধান রংয়ের সাথে গহনার রং মেলান। সোনা ও রুপা একসাথে না পরাই ভালো। চটকদার রঙের পোশাকে গহনা রাখুন ন্যূনতম। প্যাস্টেল রঙের পোশাকে জিরকন পাথরের গহনা দারুণ মানায়। নিয়ম মেনে চললে ছোট খরচেই বড় ব্র্যান্ডের মতো লুক পাওয়া যায়।
ত্বকের টোন অনুযায়ী গহনা নির্বাচন
ত্বকের টোন জেনে গেলে সোনার প্রলেপ নাকি রুপার প্রলেপ মানানসই, তা সহজেই বোঝা যায়।
ত্বকের টোন বোঝার সহজ উপায় হলো কবজির শিরার রং দেখা। নীলাভ শিরা থাকলে ত্বক ঠান্ডা টোনের; সোনালি বা সবুজাভ শিরা থাকলে উষ্ণ টোনের। উষ্ণ ত্বকে হলদে সোনা ও কপার টোনের গহনা বেশি মানায়। ঠান্ডা ত্বকে রুপা, সাদা সোনা ও প্ল্যাটিনাম টোন উপযুক্ত।
নিউট্রাল টোনের ত্বকে সব ধরনের ধাতুই সমানভাবে ভালো দেখায়। গোলাপি সোনার প্রলেপও অনেকের গায়ে দারুণ মানায়। মুখের পাশে কয়েকটি ভিন্ন গহনা ধরে দেখুন কোনটি আপনাকে উজ্জ্বল করে। এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। ত্বকের টোনের সাথে মানানসই গহনা বাছাই করলে আউটফিট যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শাড়ি, সালোয়ার, গাউন ও পাশ্চাত্য পোশাকের সাথে গহনা
প্রতিটি পোশাকের ধরন অনুযায়ী গহনার স্টাইল বদলে যায়; ভারী শাড়ির সাথে ভারী সেট আর পাশ্চাত্য পোশাকে মিনিমাল গহনা শ্রেয়।
শাড়ির সাথে গহনার সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেনারসি বা জামদানি শাড়ির সাথে ভারী নেকলেস, ঝুমকা কানের দুল ও চুড়ি মানানসই। কটন বা লিলেন শাড়িতে হালকা কানের দুল ও ছোট নেকলেস যথেষ্ট। শাড়ির রং ও কাজের সাথে গহনার নকশার মিল থাকা জরুরি।
সালোয়ার-কামিজের সাথে হালকা ও মাঝারি ওজনের গহনা ভালো দেখায়। হিন্দি স্টাইলের কানের দুল বা চেইন নেকলেস সালোয়ারের সাথে সুন্দর মানায়। গাউন পরলে মিনিমাল গহনা বেছে নিন। লম্বা ঝোলা কানের দুল ও সরু ব্রেসলেট গাউনের সাথে চমৎকার। পাশ্চাত্য পোশাকে চঙ্কি নেকলেস এড়িয়ে চলুন।
অনুষ্ঠান ও ঋতু অনুযায়ী গহনা বাছাই
বিয়ের অনুষ্ঠানে ভারী গহনার সেট এবং অফিস বা দৈনন্দিন কাজে হালকা গহনা পরা উচিত।
বিবাহ, বাগদান বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য ভারী গহনার সেট উপযুক্ত। হিন্দি সেট, ট্রাবজোন স্টাইল সেট বা ফিউশন সেট এসব ক্ষেত্রে জনপ্রিয়। অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ে হালকা স্টাড কানের দুল ও সরু চেইন পরাই শ্রেয়। অতিরিক্ত ঝলমলে গহনা কর্মক্ষেত্রে অস্বস্তিকর দেখায়।
ঋতুও গহনা নির্বাচনে ভূমিকা রাখে। গরমে ঘামের কারণে ভারী প্রলেপ দ্রুত নষ্ট হয়। তাই গ্রীষ্মে হালকা ইমিটেশন গহনা পরুন। শীতের মোটা পোশাকে বড় আকারের গহনা ভালো দেখায়। বর্ষায় জলরোধী গহনা নিরাপদ, কারণ স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় প্রলেপ কম স্থায়ী হয়।
গহনার যত্ন ও সংরক্ষণ
সঠিক যত্ন ও সংরক্ষণ পদ্ধতি মেনে চললে ইমিটেশন গহনার আভা দীর্ঘদিন টিকে থাকে।
ইমিটেশন গহনা পরার পর প্রতিবার নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিন। পারফিউম, লোশন বা স্প্রে ব্যবহারের আগে গহনা পরবেন না। এসব রাসায়নিক উপাদান প্রলেপ নষ্ট করে। গোসল, ঘুম বা ব্যায়ামের সময় গহনা খুলে রাখুন। আলাদা পাউচে সংরক্ষণ করলে দাগ পড়বে না।
মাসে একবার হালকা গরম পানি ও মাইল্ড সোপ দিয়ে পরিষ্কার করুন। শক্ত ব্রাশ ও কেমিকেল ক্লিনার ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘদিন পর প্রলেপ ফিকে হলে রিপ্লেট করিয়ে নিন। সামান্য যত্নেই গহনা বছরের পর বছর নতুনের মতো থাকে। সঠিক ব্যবহারের নিয়ম জানলে ইমিটেশন গহনার আয়ু অনেক বেড়ে যায়।
আপনি হিন্দি স্টাইলের ইমিটেশন সেট অন্বেষণ করতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ইমিটেশন গহনা কি আসল গহনার মতো দেখতে?
হ্যাঁ, আধুনিক ইমিটেশন গহনায় সোনার প্রলেপ ও জিরকন পাথর ব্যবহারের কারণে দেখতে আসল গহনার মতোই লাগে।
ত্বকের রং অনুযায়ী কোন ধাতুর রং বেছে নেব?
উষ্ণ ত্বকের টোনে সোনালি ও কপার, ঠান্ডা টোনে রুপা ও সাদা সোনা, আর নিউট্রাল টোনে সব ধরনের ধাতুর গহনা মানানসই।
শাড়ির সাথে কোন ধরনের ইমিটেশন গহনা মানানসই?
বেনারসি বা ভারী কাজের শাড়িতে ভারী নেকলেস ও ঝুমকা, আর কটন শাড়িতে হালকা গহনা সবচেয়ে ভালো দেখায়।
ইমিটেশন গহনা কতদিন টেকে?
ভালো মানের প্রলেপযুক্ত ইমিটেশন গহনা সঠিক যত্নে ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
ইমিটেশন গহনা পরার সময় কোন ভুলগুলো এড়ানো উচিত?
পারফিউম-লোশন ব্যবহারের পর গহনা পরা, গোসলের সময় গহনা রাখা এবং কেমিকেল ক্লিনার ব্যবহার করা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।